Monday, July 24, 2023

Manipur: India outrage after women paraded naked in violence-hit state

 


A video showing two women being paraded naked by a mob in the north-eastern state of Manipur, hit by violent ethnic clashes, has sparked outrage in India.

The police say they have opened a case of gang rape and arrested a man, adding that others will be held soon.

On Thursday, parliament's session in Delhi was disrupted as lawmakers demanded a debate on the issue.

Prime Minister Narendra Modi also said the incident had "shamed India" and that "no guilty will be spared".

"I assure the nation, the law will take its course with all its might. What happened with the daughters of Manipur can never be forgiven," he said, finally breaking his silence on Manipur more than two months after violence erupted.

Chief Justice of India DY Chandrachud also expressed concern over the assault, saying the Supreme Court was "deeply disturbed over the video". Telling the government to inform the court about the steps being taken against the accused, the chief justice said "we will take action if you don't".

Deadly violence has plunged Manipur, a scenic Indian state bordering Myanmar, into turmoil for more than two months.

Clashes between members of the majority Meitei and the Kuki tribal communities have resulted in their complete segregation. At least 130 people have died and 60,000 have been displaced.

The two women, who are Kukis, were assaulted by men of the Meitei group.

Warning: This article contains details some readers may find distressing.

Police say the assault on the women took place on 4 May but it made national headlines on Thursday after the video started going viral on social media. The federal government has asked all social media companies to delete the video from their platforms.

The horrific video of the two women was widely shared on social media on Wednesday. It shows them being dragged and groped by a mob of men who then push them into a field.

The Indigenous Tribal Leaders' Forum (ITLF) said in a statement that the atrocities had been committed in a village in Kangpokpi district against women from the Kuki-Zo tribal community. It also alleged that the women had been gang raped.

Presentational grey line

Women's bodies have become a battleground

By Geeta Pandey, BBC News, Delhi

It's well known that women's bodies often become a battleground during riots and conflicts, and rape and sexual assault are used as instruments of violence to punish them.

The sexual assault of the Kuki women in Manipur is the latest example. The footage showing the women weeping, wincing in pain and begging their attackers to show some mercy is disturbing to watch.

The fact that the first arrest has been made only now, more than two months after the attack was reported to police, does not inspire confidence in the authorities - all the more so since many of the men are clearly identifiable in the footage.

But the outrage that followed the video's emergence in India has put the spotlight on the horrific crime. It has also raised questions about the failure of the state in comforting the survivors - and finally forced Mr Modi to make a statement on the ethnic violence that is tearing Manipur apart.

To restore some sort of confidence in Manipur, especially among the minority Kuki community, the authorities are now under pressure to act swiftly against the perpetrators and bring justice to the women. People across the country feel this should not be happening in modern India.

Presentational grey line

"The gang rape of the women happened after the village was burnt down and two men - one middle-aged and another a teenager - were beaten to death by the mob," the ITLF said.

But the police complaint filed by a relative of one of the women said only one of them was gang raped. It added that a third woman had been forced to strip but she is not seen in the video.

Police said that the incident took place on 4 May and that a case of abduction and gang rape and murder had been registered in Thoubal district.

The assault has been condemned by politicians across the spectrum.


credit-- bbc

Thursday, November 10, 2022

“Bangladesh Has No Indigenous People”

 In 2011, the Bangladesh government enacted the “Small Ethnic Group Cultural Institute Law”, an act that would classify the 40-45 non-Bengali ethnic tribes as “ethnic minorities”. On the eve of enactment, the contemporary Foreign Minister, Dipu Moni, said “Bangladesh does not have any indigenous population”; a similar claim had been made by the Bangladeshi delegate to the 9th UN Permanent Forum on Indigenous Issues a year before. In 2012, an internal official memo, circulated in the Ministry of Local Government, Rural Development, stated “steps should be taken to publicize/broadcast in the print and electronic media that there are no Indigenous people in Bangladesh”.

These statements are not isolated remarks made by ultranationalist or poorly informed bureaucrats, but rather a reflection of the government’s attitude towards “ethnic minorities” since the inception of Bangladesh in 1971. In 1972, Bangladesh ratified the International Labor Organization’s Convention 107 on Indigenous and Tribal Populations, which guarantees the protection of minority rights through “progressive integration”, but it has not yet ratified ILO’s Convention 169, created in 1991 in response to the criticism that Convention 107 was assimilationist. Convention 169 adopted the term “self-determination” and remains the only binding instrument dedicated to the rights of Indigenous peoples. Bangladesh’s refusal to ratify Convention 169 continues a legacy of tribal populations being viewed as “alien others” in the Bengali-Muslim majority state. From constitutional amendments to economic development policy, a two decades long civil war, and continued oppression, the history of the indigenous people in Bangladesh is one of their right to self-determination being denied. 

The fate of any population in the Indian subcontinent can be traced back to 200 years of British colonial policy. But to solely lay the blame on the British and argue that nascent post-colonial states have inherited land conflicts between “ethnic minorities” and majority populations, as the Center for Development Research, Bangladesh (CDRB) has done in their monograph The Chittagong Hill Tracts of Bangladesh: The Untold Story (1992), overlooks the policy decisions the subsequent governments of these states have enacted to prevent indigenous “self-determination”. The Adibashis (indigents) of Bangladesh have not just lost their lands as minorities in successive colonial administrations, but their very way of life. Broken promises by governments, forced assimilations, and state repression threaten their very existence, slowly driving them towards extinction. 


Saturday, January 23, 2016

আদিবাসী না উপজাতি : একটি পর্যালোচনা


বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালিত হচ্ছে আজ। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসী জনগণকে ‘উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে সরকার। সরকারি ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ তাদের মতো করে দিবসটি পালন করছে।
আদিবাসী নেতাদের মতে, বাংলাদেশে ৪৫টি জাতিসত্তার প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী রয়েছে। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। আদিবাসীদের দাবি এখন পর্যন্ত এড়িয়ে চলেছে সরকার।
আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র্র বোধিপ্রিয় লারমাও (সন্তু লারমা) জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্টে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ পালন করার পক্ষে। দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনেরও দাবি তার। তার বক্তব্য হচ্ছে, ‘সংবিধানে আদিবাসীদের উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদিবাসী জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ নানামুখী শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে চলেছে। অব্যাহত শোষণ-বঞ্চনার কারণে তাদের আত্মপরিচয়, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সরকার কখনো রাষ্ট্রীভাবে আদিবাসী দিবস উদযাপন করেনি।’
সন্তু লারমার দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
অন্যদিকে আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ সরকারের। সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমানে দেশে আদিবাসীদের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও বিভিন্ন সময় বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বার বার ব্যবহার হয়ে থাকে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমনকি সরকারি ঘোষণায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান, আলোচনা ও টকশোতে ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আলোচনা ও টকশোতে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ সুশীল সমাজের প্রতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী শব্দটির ব্যবহার পরিহারের জন্য পূর্বেই সচেতন থাকতে অনুরোধ পর্যন্ত জানানো হয়েছে।
উইকিপিডিয়ায় প্রদত্ত তথ্য মতে, আদিবাসী জনগণকে প্রাথমিক দিকে প্রথম জাতি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, আদিম মানুষ, উপজাতি প্রভৃতি নামে চিহ্নিত করা হতো। আদিবাসী শব্দটির প্রকৃত সংজ্ঞা ও তাদের অধিকার নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক প্রচুর। জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পরেও আদিবাসীদের ব্যাপারে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো সংজ্ঞায় উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি।
সাধারণত কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করত এবং এখনো করে; যাদের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে, যারা নিজেদের আলাদা সামষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী। আদিবাসীদের উপজাতি হিসেবে সম্বোধন করা একেবারেই অনুচিত, কারণ তারা কোন জাতির অংশ নয় যে তাদের উপজাতি বলা যাবে। বরং তারা নিজেরাই এক একটি আলাদা জাতি।
পাঁচটি মহাদেশে ৪০টির বেশি দেশে বসবাসরত প্রায় ৫,০০০ আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি। নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ায় যুগে যুগে এদের অনেকে প্রান্তিকায়িত, শোষিত, বাধ্যতামূলকভাবে একীভূত হয়েছে এবং যখন এসব অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকারের স্বপক্ষে তারা কথা বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা দমন নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের আলোচনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এ বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং ১৯৯৩ সালকে ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী দশক’ ঘোষণা করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের উদ্বেগের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া। এ ছাড়া ১৯৯৫ সালের ৯ আগস্টকে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়।
আদিবাসীদের অধিকার বিশেষ করে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়টি অনেক রাষ্ট্রের কাছে স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ ওই সমস্ত দেশের জনগণের একটা বড় অংশই আদিবাসী। যেমন- কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, চীন, পাপুয়া নিউগিনি এবং অধিকাংশ লাতিন আমেরিকার দেশসমূহ। বাংলাদেশ সরকারের মতে ‘বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই’।
উইকিপিডিয়ায় প্রাপ্ত আরেক তথ্য মতে, উপজাতি এমন জনগোষ্ঠীগুলোকে বুঝায় যারা আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু নিজস্ব একটি আলাদা সংস্কৃতি গড়ে তুলেতে সমর্থ হয়েছে। মূলতঃ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে জাতি বা উপজাতি নির্দিষ্টকরণ হয়ে থাকে। উপজাতি বা নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসমূহ হচ্ছে- মগ, মুরং, মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, হাজং ইত্যাদি। বাংলাদেশে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর শীর্ষস্থানে রয়েছে চাকমা উপজাতির লোকজন।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র কিন্তু জনবহুল রাষ্ট্র। জনসংখ্যার অধিকাংশ বাঙালি হলেও অনেকগুলো উপজাতি গোত্রও রয়েছে। বাংলাদেশের উপজাতি জনগোষ্ঠির সিংহভাগ পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী অঞ্চলে বসবাস করে। বিবিএস ১৯৮৪ সালের রিপোর্টে ২৪টি নৃতাত্ত্বিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এবং মোট জনসংখ্যা ৮,৯৭,৮২৮ জন বলা হয়েছে। উপজাতিগুলো হলো- সাঁওতাল, ওঁরাও, পাহাড়িয়া, মুন্ডা, রাজবংশী, কোঁচ, খাসিয়া, মনিপুরী, টিপরা, প্যাংখো, গারো, হাজং, মার্মা, চাকমা, তংচঙ্গা, চাক, সেন্দুজ, ম্রো, খিয়াং, বোম (বনজোগী), খামি, লুসাই (খুমি)।
পক্ষান্তরে ১৯৯১ সালের রিপোর্টে ২৯টি নৃতাত্ত্বিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মোট ১২,০৫,৯৭৮ জন মানুষের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছে। নৃতাত্ত্বিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলো হলো- বংশী, বোম, বুনা, চাক, চাকমা, কোঁচ, গারো, হাজং, হরিজন, খাসিয়া, খিয়াং, খুমি, লুসাই, মাহাতো, মারমা, মণিপুরি, মুন্ডা, মুরুং, ম্রো, পাহাড়িয়া, প্যাংখো, রাজবংশী, রাখাইন, সাঁওতাল, তংচঙ্গা, টিপরা, ত্রিপুরা, ওঁরাও, উরুয়া। লক্ষণীয় বিষয়, এতে প্রচুর তথ্যবিভ্রাট রয়েছে। যেমন টিপরা ও ত্রিপুরা, ম্রো ও মুরুং, ওঁরাও ও উরুয়া একই নৃ তাত্ত্বিক ক্ষুদ্র হলেও রিপোর্টে এদের আলাদা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বলা হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে প্রচলিত ইংরেজি বানানে ভিন্ন রীতির কারণে এমনটি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বুনা, হরিজন নামে আলাদা কোনো নৃ তাত্ত্বিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী নেই। কোঁচ জনগোষ্ঠীর বসবাসের মূল এলাকা উত্তরবঙ্গ হলেও এ বিভাগে কোঁচদের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনা বলছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৭টিতেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসংখ্যা কমেছে। অন্য ১৭ জেলায় বেড়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৯৭২ জন। তবে বাস্তব অবস্থার সঙ্গে এই হিসাবের মিল নেই। ফলে আদমশুমারির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ প্রতিবেদনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ‘এথনিক পপুলেশন’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৭টি। এগুলো হচ্ছে: চাকমা (চার লাখ ৪৪ হাজার ৭৪৮), মারমা (দুই লাখ দুই হাজার ৯৭৪), ত্রিপুরা (এক লাখ ৩৩ হাজার ৭৯৮), ম্রো (৩৯ হাজার চারজন), তঞ্চ্যঙ্গা (৪৪ হাজার ২৫৪), বম (১২ হাজার ৪২৪), পাঙ্খুয়া (দুই হাজার ২৭৪), চাক (দুই হাজার ৮৩৫), খিয়াং (তিন হাজার ৮৯৯), খুমি (তিন হাজার ৩৬৯), লুসাই (৯৫৯), কোচ (১৬ হাজার ৯০৩), সাঁওতাল (এক লাখ ৪৭ হাজার ১১২), ডালু (৮০৬), উসাই (৩৪৭), রাখাইন (১৩ হাজার ২৫৪), মণিপুরি (২৪,৬৯৫), গারো (৮৪ হাজার ৫৬৫), হাজং (নয় হাজার ১৬২), খাসিয়া (১১ হাজার ৬৯৭), মং (২৬৩), ওঁরাও (৮০ হাজার ৩৮৬), বর্মন (৫৩ হাজার ৭৯২), পাহাড়িয়া(পাঁচ হাজার ৯০৮), মালপাহাড়ি (দুই হাজার ৮৪০), মুন্ডা (৩৮ হাজার ২১২) ও কোল (দুই হাজার ৮৪৩)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এইচ কে এস আরেফিন এর মতে, এক সময় পৃথিবীব্যাপী নৃ-বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা উপজাতি (ট্রাইবাল, অ্যাবওরিজিন) ধরনের শব্দ ব্যবহার করতেন। কিন্তু এসব শব্দের ব্যবহার বাতিল হওয়া দরকার। কারণ কেউ জাতি কেউ উপজাতি এটা হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘উপজাতি শব্দ ব্যবহার করলে অনেকটাই অধিকারবঞ্চিত মনে হয়।’
তার মতে, আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করলে তার একটি রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে। এ ক্ষেত্রে অধিকারের বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দেয়। আদিবাসী মানে তারা এই মাটিরই সন্তান।
পররাষ্ট্র ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতের মতো বর্তমান সরকারও মনে করে, বাংলাদেশে কিছু ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী আছে, আদিবাসী নেই। এমনকি জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক ফোরামের বৈঠকে অংশ নিয়েও এমন বক্তব্য দিয়েছে সরকারের প্রতিনিধি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (ইউএনপিএফআইআই) নবম অধিবেশনে বাংলাদেশ মিশনের এক কর্মকর্তা আলোচনায় অংশ নেন। লিখিত বক্তবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই। তবে পর্যবেক্ষক হিসেবে ফোরামের কার্যক্রমে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে উপজাতি কিংবা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজন বাস করে। তাদের বেশির ভাগের অবস্থান দেশের তিন পার্বত্য জেলায়।’
২০০৮ সালের ১৯ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে আদিবাসী বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় একই বছর ৯ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়, দেশে কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আছে। কোনো আদিবাসী (ইনডিজেনাস পিপলস) নেই। চিঠিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার বাসিন্দাদের দুটি ভাগে ভাগ করা হয়- একটি উপজাতি এবং অন্যটি অ-উপজাতি (বাঙালি)।
চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় এর মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের ঘোষণা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আদিবাসী অধিকারের স্বীকৃতির বিষয়টি বিশেষ কোনো সুযোগ নয়। কারণ দেশের বিশেষ অঞ্চলের ওই সব মানুষ রাষ্ট্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়নি। অন্যদিকে বিশেষ প্রেক্ষাপটে তারা বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে। কাজেই তাদের সমান অধিকারের সুযোগ দিতে হলে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে করে সমান অধিকার চর্চার তারা সুযোগ পায়। ‘সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি নেই’ এ ব্যাপারে সন্তু লারমার সঙ্গে একমত হলেও দেবাশীষ রায় মনে করেন, দেশের বিভিন্ন আইনে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের স্বীকৃতি রয়েছে।
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্মোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার উপজাতি সম্মোধনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু সরকার আদিবাসী সম্মোধন করলেই আমরা খুশি হতাম।’
আইএলও কনভেনশন-১০৭ এর অনুচ্ছেদ ১ এর উপ-অনুচ্ছেদ ১(খ) বর্ণিত `আদিবাসী` সংজ্ঞাটি এ রকম- ‘স্বাধীন দেশসমূহের আদিবাসী এবং ট্রাইবাল জনগোষ্ঠীর সদস্যদের ক্ষেত্রে রাজ্য বিজয় কিংবা উপনিবেশ স্থাপনকালে এই দেশে কিংবা যে ভৌগোলিক ভূখ-ে দেশটি অবস্থিত সেখানে বসবাসকারী আদিবাসীদের উত্তরাধিকারী হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে `আদিবাসী` বলে পরিগণিত এবং যারা তাদের আইনসংগত মর্যাদা নির্বিশেষে নিজেদের জাতীয় আচার ও কৃষ্টির পরিবর্তে ওই সময়কার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আচার ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন করে।’
অন্যদিকে উপজাতি সম্পর্কে আইএলও কনভেনশন-১০৭ এর অনুচ্ছেদ ১ এর উপ-অনুচ্ছেদ ১(ক) অংশে বলা হয়েছে- ‘স্বাধীন দেশসমূহের আদিবাসী এবং ট্রাইবাল জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বেলায় যাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা জাতীয় জনসমষ্টির অন্যান্য অংশের চেয়ে কম অগ্রসর এবং যাদের মর্যাদা সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে তাদের নিজস্ব প্রথা কিংবা রীতি-নীতি অথবা বিশেষ আইন বা প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ আদিবাসী হলো `সন অব দি সয়েল`। আর উপজাতি হলো প্রধান জাতির অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র জাতি।
`আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র ২০০৭` অনুসারে তাদের ৪৬টি অধিকারের কথা লিপিবদ্ধ হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়নি বা সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হয়নি। তা ছাড়া ঘোষণাপত্রের ওপর সব সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে সর্বসম্মত সমর্থন নেই। এ কারণে বাংলাদেশ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্রের ওপর ভোট গ্রহণের সময় তারা ভোটদানে বিরত ছিল। তবে যেকোনো অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি সমর্থন রয়েছে সরকারের। সংবিধান অনুসারে, সরকারপ্রধান প্রধান মানবাধিকার চুক্তির প্রতি অনুগত এবং উপজাতিদের অধিকার সমর্থন করে আসছে।
আদিবাসী শব্দটি সংবিধানে সংযোজিত হলে যা হবে : মনে করা হচ্ছে, আদিবাসী শব্দটি সংবিধানে সংযোজিত হলে ২০০৭ সালের `আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র` মেনে নিতে হবে; যা হবে বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী। কারণ, ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ-৪-এ আছে- `আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার চর্চার বেলায়, তাদের অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন এবং স্বশাসিত সরকারের অধিকার রয়েছে ও তাদের স্বশাসনের কার্যাবলির জন্য অর্থায়নের পন্থা এবং উৎসের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অধিকার রয়েছে।` অর্থাৎ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করলে ও পার্বত্য অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ সরকার খাগড়াছড়ির গ্যাস উত্তোলন করে অন্য জেলায় আনতে পারত না। কারণ সেখানকার স্বশাসিত আদিবাসী শাসক নিজেদের অর্থায়নের উৎস হিসেবে সেই খনিজ, বনজ ও অন্যান্য সম্পদ নিজেদের বলে চিন্তা করত।
আবার অনুচ্ছেদ-৩৬-এ আছে, `আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর, বিশেষত যারা আন্তর্জাতিক সীমানা দ্বারা বিভক্ত হয়েছে, তাদের অন্য প্রান্তের নিজস্ব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক কার্যক্রমসহ যোগাযোগ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বজায় রাখার ও উন্নয়নের অধিকার রয়েছে।` রাষ্ট্র এই অধিকার কার্যকর সহযোগিতা প্রদান ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। ঘোষণাপত্রের এই নির্দেশ কোনো সরকারই মেনে নিতে পারবে না। কারণ পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তা ছাড়া বাংলাদেশে পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে; যা ক্রমেই সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত করবে।
জাতিসংঘের এই ঘোষণাপত্রের শেষ অনুচ্ছেদ-৪৬-এ সবার মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলা হয়েছে এবং এই কাজটি মহাজোট সরকারের গত আমলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুসারে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সমতা, বৈষম্যহীনতা, সুশাসন এবং সরল বিশ্বাসের মূলনীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের একাধিক অনুচ্ছেদ অনুসারে, আদিবাসীদের কোনো অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা যাবে না। এক্ষেত্রে শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য বিষয়ে বাঙালিদের মতো তাদেরও সমান সুযোগ দিতে বাধ্য থাকবে রাষ্ট্র। এর আরেক ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে, উপজাতিদের `আদিবাসী` হিসেবে চিহ্নিত করলে কোটা সুবিধা বাতিল অনিবার্য হয়ে পড়বে। ফলে তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বাঙালি-উপজাতি সম্পর্কের মধ্যে বিরূপ ধারণা জন্ম নিতে পারে। মনে রাখা দরকার, এই ঘোষণাপত্রের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ সব দেশে বিপুলসংখ্যক নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর বসতি রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভোটদানে বিরত ছিল রাশিয়া, ভুটান, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, ইউক্রেন, কলম্বিয়াসহ অনেক দেশ। অনুপস্থিত ছিল আরো অনেক উন্নত দেশ।
প্রসঙ্গত, ভারতে বসবাসকারী একই সম্প্রদায়ভুক্ত উপজাতিদের সেখানকার সংবিধানে আদিবাসী হিসেবে সম্বোধন করা হয়নি। সংবিধানে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামকে উপজাতি অধ্যুষিত রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী তথা উপজাতিগুলোর উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে ১৯৭২ সালের ২২ জুন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রণীত `ইন্ডিজেনাস অ্যান্ড ট্রাইবাল পপুলেশনস কনভেনশন, ১৯৫৭` (কনভেনশন নম্বর ১০৭)-এ অনুস্বাক্ষর করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী এবং ট্রাইবাল জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়সহ তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার জন্য জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আবার সংশোধিত `ইন্ডিজেনাস অ্যান্ড ট্রাইবাল পপুলেশনস কনভেনশন ১৯৮৯` (কনভেনশন নম্বর ১৬৯) গ্রহণ করে। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল জাতীয় পর্যায়ে উপজাতিদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয়। এখানে ট্রাইবাল বা সেমি-ট্রাইবাল বলতে ওই গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যারা তাদের ট্রাইবাল বৈশিষ্ট্য হারানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং এখনো জাতীয় জনসমষ্টির সঙ্গে একীভূত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত পথে অগ্রসর হয়ে বর্তমান সরকার পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি অধিবাসীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আদিবাসী নয়, উপজাতি কিংবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাহাড়িদের বঞ্চনা ও ভূমি বেদখল তৎপরতার দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর উদ্যোগ দিতে হবে। আদিবাসীর ভূমি অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে `আদিবাসী` হিসেবে নয়, উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে এসব দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি সরকার গ্রহণ করবে না। এ ব্যাপারে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রায় এক-দশমাংশ জুড়ে চট্টগ্রাম। পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ভূসম্পদ এ দেশের অন্তর্গত রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এ সম্পদ ব্যবহার করে জনগণ দেশকে আরো অগ্রসর করতে পারে। কিন্তু সেখানে ক্রমাগত জাতিগত দ্বন্দ্ব, সংঘাত, অন্তঃকলহ ও বিরোধ, নেতৃত্বের টানাপড়েন ও রেষারেষি সাধারণ নিরীহ পার্বত্যবাসীর অশান্তির কারণ হয়েছে। অনগ্রসর, পিছিয়েপড়া ও দরিদ্র মানুষ অনিরাপদ, উদ্বিগ্ন থাকে। এসব সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও শান্তিপূর্ণ মনোভাবের প্রতিফলন তাতে ঘটেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এ শান্তিচুক্তি বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি, অ-উপজাতি ও স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অগ্রগতি, বিকাশ, নিরাপত্তা, শান্তি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যাবতীয় উদ্যোগ গৃহীত হয়। বিভ্রান্তি ও অনিরাপত্তার আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসে যুবশক্তি, বিচ্যুত মানুষ। শান্তিচুক্তির আওতায় জাতীয় জীবনের সঙ্গে অগ্রগতির স্বার্থে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার অনুমোদিত হয়। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও ইতিবাচক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পার্বত্যবাসীর স্বার্থ উৎসাহিত হয়। পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতায় জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চলের অধিগ্রহণ-হস্তান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রতিটি পার্বত্য জেলার পাঁচ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পার্বত্য জেলা পরিষদ` গঠিত হয়। পার্বত্য জনসংহতি নেতা সন্তু লারমাকে চেয়ারম্যান করে ২৫ সদস্যভিত্তিক অন্তর্বর্তীকালীন আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয় তিনটি পাবর্ত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর ও নিয়ন্ত্রণাধীন করা হয়েছে। ফিরে আসা উপজাতিদের পুনর্বাসন, অর্থায়ন ও পুলিশবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছে। উপজাতীয়দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও চাকরির জন্য কোটাব্যবস্থা চালু করা হয়। জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত হয় `ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল, ২০১০`। বর্তমানে উন্নয়ন কর্মকা-ের ৯১ ভাগ উপজাতীয়দের জন্য এবং অ-উপজাতীয়দের জন্য ৯০ ভাগ বরাদ্দ আছে।
পাহাড়িদের বঞ্চনা ও ভূমি বেদখল তৎপরতার দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর উদ্যোগ দিতে হবে। আদিবাসীর ভূমি অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে `আদিবাসী` হিসেবে নয়, উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে এসব দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি সরকার গ্রহণ করবে না। এ ব্যাপারে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি ভারত সরকারও `আদিবাসী`র স্বীকৃতি দেয়নি। `আদিবাসী` ধারণাটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগেই সরকার সম্মত হবে না। উপজাতি অথবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়নের জন্য গৃহীত কর্মকাণ্ড বিষয়ে তাদের মতামত ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। আদিবাসী হিসেবে নয়, বরং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে অধিকার রয়েছে তা যাতে আরো পরিপূর্ণ মাত্রায় বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। সবাইকে মিলেমিশে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তির পক্ষে বসবাস করতে হবে। এটা পরীক্ষিত যে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সংঘাতকে আহ্বান করলে কোনো পক্ষেরই শান্তি আসবে না।

রাজবংশী

রাজবংশী

 

নৃত্যরত রাজবংশী কিশোরী
নৃত্যরত রাজবংশী কিশোরী

রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তাদেরকে ক্ষত্রিয় নামক এক কোচ শাখার সঙ্গেও অভিন্ন বলে অনেকে মনে করেন। দূরাতীত কালে হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ। এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান। বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়। ১৯৪১ ও পরবর্তী আদমশুমারিতে রাজবংশীদের হিন্দু জনগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এদের মোট জনসংখ্যা পাঁচ হাজারের একটু বেশি।
রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ। পিতাই পরিবারের প্রধান। পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তান সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। তাদেরকে ধর্মীয় আচারে শৈব বলে মনে করা হলেও শাক্ত, বৈষ্ণব, বৌদ্ধ, তান্ত্রিক প্রভৃতি বিশ্বাসের সমন্বয়ে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। তারা মহাকাল শিব, বিষহরী (মনসা)র আরাধনা করেন এবং একই সঙ্গে দুর্গা, কালী (শ্যামা), লক্ষ্মী, জগন্নাথ, নারায়ণ, বিষ্ণু প্রভৃতি দেবদেবীরও পূজা করে। দেবদেবীর পূজার পাশাপাশি প্রাচীন কৃষিসংস্কৃতির প্রতীক ‘বারিধারা’ ব্রত কিংবা উর্বরতা ও প্রজননের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রত বা অনুষ্ঠানাদি পালন করে। এরা প্রকৃতি উপাসকও বটে এবং পাহাড়, নদী, অরণ্য ও মৃত্তিকার পূজা করে থাকে। এরা ঘর-সংসারের মঙ্গল কামনায় বাস্ত্তদেবতা বাহাস্তো বা বাহুস্তো এবং শস্য রোপণের পূর্বে বলিভদ্র ঠাকুরের পূজা করে। এদের পূজা-পার্বণে নৃত্যগীতোৎসব আদিবাসীসুলভ সামাজিক প্রথারূপেই ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। খরা, অনাবৃষ্টি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হুদুমা’ পূজা রাজবংশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
রাজবংশী নারীদের ব্যবহৃত গহনা
রাজবংশী নারীদের ব্যবহৃত গহনা

রাজবংশী পুরুষরা ধুতি ও জামা পরে। বিয়ের সময় বর কনে উভয়ই পাড়বিহীন সাদা কাপড় পরে। আগে রাজবংশী নারীরা চারহাত দৈর্ঘ্য এবং আড়াই হাত প্রস্থের হাতে বোনা মোটা ধরনের বহু বর্ণ রঞ্জিত এক বস্ত্র পরিধান করতো। এটিকে বলা হতো ‘ফতা’। বর্তমানে সুতার অভাবে এটি আর তৈরি হয় না। নারীরা বিভিন্ন ধরনের গহনা ব্যবহার করেন। চুলের অলংকার হিসেবে তারা সিঁথা-পাটি, সেঁদ, বন ব্যবহার করেন। ওন্তি, এন্তি, সাদিয়া-পাত, গুজি, সোনা, সিসা, চাকি, সাকিরি প্রভৃতি হচ্ছে তাদের কানের অলংকার। গলায় সূর্যহার, চন্দ্রহার, শিকইল হার, কাঠি-মালা, ছোরা-কাঠি প্রভৃতি অলংকার ব্যবহার করে। কোমরে গোটা-খারু, গোকুল খারু, মোটা খারু, মুটিয়া-খারু, বাউটি-চুরাতি, রতনচুর এবং হাতে মোটা-খারু, শাঁখা-খারু, গজরা, সোমপাত্তি প্রভৃতি পরে। রাজবংশীরা বিভিন্ন গোত্রনাম গ্রহণ করেছে। তাদের গোত্রগুলি হলো: কাশ্যপ, শান্ডিল্য, পরাশর, ভরদ্বাজ, গৌতম, সবর্ণ, কপিল প্রভৃতি।
রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই। এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ। এরা যে আঞ্চলিক মিশ্র ভাষায় কথা বলে তা কারও কারও বিচারে ‘বিকৃত’ বাংলা। রাজবংশীদের বিবাহ প্রথায় সাঁওতাল, ওরাওঁদের বিবাহরীতির প্রভাব যথেষ্ট। বিবাহ বিচ্ছেদ, পুনর্বিবাহ ও বিধবা বিবাহ সমাজে প্রচলিত। তবে বিধবা বিবাহের ক্ষেত্রে দেবরদের দাবি অগ্রগণ্য। রাজবংশীরা মৃতদেহ পুড়িয়ে সৎকার কাজ সম্পন্ন করে। একমাস পর মৃত ব্যক্তির জন্য শ্রাদ্ধকর্ম অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্যসুত্রঃ আহমদ রফিক (বাংলাপিডিয়া), ছবিঃ সংগ্রহ

মুরং

মুরং উপজাতিদের গো-বলি উৎসব।
মুরং বাংলাদেশের একটি জাতিগোষ্ঠি। মুরুং শব্দটি বহুবচন যার একবচন হল ‘ম্রো’। ‘ম্রো’ শব্দের অর্থ মানুষ। ম্রো ভাষায় ‘ম্রো’রা নিজেদের ‘মারুচা’ বলে থাকে। মুরুংদের ভাষা মৌখিক।
ম্রো পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বপ্রাচীন জাতি এবং বান্দরবান জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি। ম্রোদের আদি নিবাস মায়নামারের আরাকান রাজ্য। আনুমানিক ১৪৩০ খ্রিঃ অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৫৯২ বছর আগে ম্রোরা বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম, থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। ম্রোরা মূলতঃ প্রকৃতি পূজারী হলেও অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তবে কয়েক বছর আগে ম্রোদের মধ্যে একটা নতুন ধর্ম ‘ক্রামা’ আর্বিভাবের ফলে বর্তমানে ম্রোদের একটি অংশ ক্রামা ধর্মের অনুসারি। সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে মুরুং উপজাতিরা আরকান থেকে পালিয়ে আলিকদমের বিভিন্ন পাহাড়ী উপত্যকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তবে বার্মার আকিয়াব জেলায় এখনো মুরুং উপজাতীয় বসতি বিদ্যমান বলে জানা যায়।
উপজেলা সদর থেকে দেড় কি.মিটার দুরে চিওনী পাড়া ও আমতলী এলাকায় এ সম্প্রদায়ের ২টি পাড়া রয়েছে। তাছাড়া প্রত্যন্ত পাহাড়ী এলাকা তৈন মৌজা, মাংগু মৌজা, চ্যৈং মৌজা, চাইম্প্রা মৌজা, তৈনফা মৌজা এবং তৈন খাল এলাকা ও মাতামুহুরী সন্নিহিত পাহাড়ী এলাকায় তাদের বসতি রয়েছে। তবে মাতামুহুরী নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ে তাদের বসবাস উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে। মুরুং সম্প্রদায়ের সমাজ ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। মুরুংদের একটি অংশ আলীকদমের প্রত্যন্ত পাহাড়ী এলাকায় তাদের ‘‘কিম’’ ঘর তৈরী করে বসতি স্থাপন করেন। মুরুংরা তাদের ঘরে জীব জন্তুর মাথা ঝুলিয়ে রেখে থাকে। মুরুংদের মধ্যে কয়েকটি গোত্র রয়েছে; এর মধ্যে- ঙারুয়া, প্রেন্জু, জালা, কানবক, নাইজাহ, তাং, দেং প্রভৃতি। প্রত্যেক পাড়ায় তাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় একজনকে ‘কার্বারী’ নিযুক্ত করা হয়। মুরুং নারী-পুরুষ কঠোর পরিশ্রমী বলে এদের স্বাস্থ্য সুঠাম। মেয়েরাও পুরুষের পাশাপাশি পাহাড়ী জুমচাষে সমান পারদর্শী।
মুরংরা অত্যন্ত সল্পবসন পরিধান করে। মেয়েরা ‘ওয়াংকাই’ নামে একধরণের ছোট পরিধেয় ব্যবহার করে। যা নাভীর নীচ থেকে হাঁটুর উপরিভাগ পর্যন্ত পড়ে থাকে। এটি ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়ামাত্র। মেয়েরা পায়ে “কক ক্যান” (নুপুর) কোমরে ‘‘রকম” (বিছা) পরে থাকে। পুরুষগণ ‘ডং’ (লেংটি-বিদ্রি) নামে একধরণের কিঞ্চিতকর বস্ত্র পরিধান করে। মুরুং মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও মাথায় লম্বা চুল রাখে। নারী-পুরুষরা মাথায় অধিকন্তু “চুরুত” (চিরুনি) গেঁথে রাখতে দেখা যায়। মুরুং মেয়েরা মাথায় কানে ও খোঁপায় বিভিন্ন ধরণের “পাও” (পাহাড়ী ফুল) গুজে রাখে। ছেলেরাও মাথার চুলকে খোপা আকারে বেঁধে রাখে। মুরংরা দাঁতের মধ্যে এক ধরণের রংয়ের প্রলেপ দিয়ে থাকে। লোহাকে উত্তপ্ত করে কাঁচা বাঁশের সাথে লাগিয়ে নির্গত রসকে দাঁতে লাগিয়ে দেয়। মুরুং সম্প্রদায়ের ছেলে একই গোত্রের কোন মেয়েকে বিবাহ করতে পারেনা। মুরুং সমাজে তিন পদ্ধতিতে বিবাহ হয়ে থাকে। রীতি অনুযায়ী মুরুং ছেলে কন্যার দেহের মূল্য বাবদ রৌপ্য  মুদ্রায় ১১০/= টাকা, মায়ের দুধের দাম বাবদ ১০/= টাকা প্রদান করতে হয়। এসব রৌপ্য টাকা অবশ্য পরিশোধনীয় বলে গণ্য করা হয়। একই গোত্রের মধ্যে ধর্মীয়ভাবে বিবাহ নিষিদ্ধ। মুরুং দম্পতির মধ্যেও মনের মিল না থাকলে তালাক প্রথা বিদ্যমান রয়েছে।
মুরুং নৃত্যের মধ্যে ছেলে মেয়েরা গালে, ঠোঁটে ও কপালে রংয়ের প্রলেপ লাগায়। নৃত্যের আগে ১৫ থেকে ২০ জন মুরুং যুবক-যুবতী মুখোমুখী দাড়িয়ে অর্ধ চন্দ্রাকৃতি রচনা করে। এরপর তাদের তৈরী বাঁশির সুর ও বাজনার তালে তালে নৃত্য পরিবেশ করে থাকে। নাচে ও গানে বিবাহিত মেয়েদের অংশ নিতে দেয়া হয়না। মুরুং সম্প্রদায় নিজেরাই ‘‘প্লুং” নামের একটি বাঁশি তৈরী করে। পাহাড়ে উৎপন্ন ‘‘বুদুম’’ (এক ধরণের পাহাড়ী লাউ) এর শুকনো খোলের সাথে ৫/৬ বা ততোধিক “কাও” (বাঁশের কঞ্চি) এর টুকরা দিয়ে এ বাঁশীটি তৈরী করা হয়।
মুরুং সম্প্রদায় মূলতঃ প্রকৃতি পুজারী। তারা ইহকালকেই স্বর্বস্ব জ্ঞান করেন। তাদের মতে পরকাল বলতে কিছুই নেই। মুরুংদের ধর্মীয় বিধি নিষেধ সম্বলিত কোন ধর্মগ্রন্থ নেই। তাদের ধর্মবিশ্বাসে আকীর্ণ প্রধান উৎসবের নাম হলো “চিয়া-চট-প্লাই” অর্থাৎ গো-হত্যা উৎসব। গো-হত্যাকে ধর্মীয় অনুষঙ্গ হিসাবেই পালন করা হয়। প্রতিবছর জুমের ফসল ঘরে তোলার আগে মুরুং সম্প্রদায় মহাধুমধামের সাথে এ উৎসব করে। এছাড়া এ সম্প্রদায়ের পরিবারে কারো অসুখ বিসুখ হলে তারা রোগ বালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘চিয়া-চট-প্লাই’ পালনের মানত করে থাকন। তারা “চাম্পুয়া” নামের অপর একটি উৎসব পালন করে থাকে। সৃষ্টিকর্তা তাদের ধর্মীয় বিধান কলাপাতায় লিপিবদ্ধ করেছিল বিশ্বাসে তারা কলাপাতা কেটে এ উৎসব করে থাকে। এ সম্প্রদায়ের অনেকে আবার ‘‘ক্রামা’’ নামের অপর একটি ধর্ম মতেও বিশ্বাস করে থাকে। মুরুং সম্প্রদায়ের কোন লোকের মৃত্যু হলে মৃতদেহ সপ্তাহ পর্যন্ত ঘরের মধ্যে রাখা হয়। মৃত ব্যক্তির পাশে শুকর, ছাগল ও মোরগ জবাই করে পরিবেশন করা হয়। মৃতকে নদী তীরবর্তী চিতায় দাহ করার আগ পর্যন্ত গান বাজনা ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে উল্লাস করা হয়।
তথ্যসুত্র ও ছবিঃ উইকিপিডিয়া

খাসিয়া

বাংলাদেশের সিলেট জেলা ও ভারতের আসামে এই জনগোষ্ঠী বাস করে। সিলেটের খাসিয়ারা সিনতেং (Synteng) গোত্রভুক্ত জাতি। তারা কৃষিজীবী। ভাত ও মাছ তাদের প্রধান খাদ্য। তারা মাতৃপ্রধান পরিবারে বসবাস করে। তাদের মধ্যে কাঁচা সুপারি ও পান খাওয়ার প্রচলন খুব বেশি। খাসিয়াদের উৎপাদিত পান বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়। । চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও এ সম্প্রদায়ের লোকজন শান্তিপ্রিয়। তাদের রয়েছে নিজস্ব নিয়ম-কানুন। তবে তাদের মধ্যে খাসিয়ারাই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পরিচালিত। তাদের সমাজ ব্যবস্থায় কোনো পুরুষ সম্পত্তির মালিক হয় না।
পুরুষদের বিয়ে হলে তারা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ওঠে। তারাও এ অঞ্চলের অন্যান্য আদিবাসীর মতো একটি প্রাচীন সম্প্রদায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে। পাহাড়ের পাদদেশে বিভিন্ন টিলা এলাকায় তাদের বসবাস। দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করলেও তারা অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির। তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তারা বসবাস করছে। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫০টি খাসিয়া পরিবার বসবাস করছে। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে আর্যরা এ দেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলে তারা আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে এ আদিবাসীরাই অনার্য বলে পরিচিতি লাভ করে। আর্য-অনার্য যুদ্ধে অনার্যরা পরাজিত হয়ে বনে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। পরে এ গহিন বনেই তারা বসবাস শুরু করে। ফলে তারা শিক্ষা দীক্ষা ও আধুনিক জীবন ব্যবস্থা থেকে দূরে থাকে। খাসিয়াদের সাংস্কৃতিক জীবন বেশ সমৃদ্ধ। তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো খুব আকর্ষণীয়। তাদের ভাষায় রচিত গানগুলোও হৃদয়ছোয়া।

Monday, October 19, 2015

Tanchangya

The Tanchangya people are one of 13 indigenous ethnic communities living in the Chittagong Hill Tracts (CHT) of Bangladesh
Tanchangya peoples have been living in CHT since its prehistoric age. Nowadays Tanchangya peoples live in Rangamati, Bandarban, Roisyabili & Sadhikyabili (Chittagong district), Ukhia and Teknaf (Cox’s bazaar district) areas of the Bangladesh. Tanchangyas also live in North-east Indian states (Assam, Tripura and Mizoram) and Rakhine State of the Myanmar. Most of Tanchangyas live in reserve forest of CHT but in 10 April, 2000 Govt declared a new Forest law named “The forest (Amendment) Act; 2000”; according to this act “Cultivation & preparation of cultivation on reserve forest land are illegal." The survival of these areas peoples becomes difficult for this act.
It is difficult to form a consensus on the exact numbers and spelling of Tanchangyas. According to census of 2001 the number of Tanchangya 31,164 in CHT (source: solidarity2002, Bangladesh Adivasi Forum). According to the report of Daily Prothom-alo the number of Tanchangya is 51,773 in CHT (Published on 3 February, 2012).
Traditionally a Tanchangya woman wears colourful dresses and ornaments. The full dresses of Tanchangya women are known as “Paiet kapor”. That means the total dresses consists of five parts. These five parts are:
  • (1) “Pinon” which is seven colours with stripes.
  • (2) “Fadhuri” which used as belt.
  • (3) “Mada-kobong” which wearing upon head.
  • (4) “Khadi” as scarf.
  • (5) “Shaloom” just like blouse.
Tanchangya women also wear various ornaments. These are “Rajjur & Jhanga” for ears, “Baghor & Kuchikharu” for Wrists and “Tajjur” for arms, “Chandrahar, hachuli & Sikchara” for neck. These ornaments are made by mainly silver. Tanchangya men generally wear loincloth and long sleeve shirts.
Day by day Tanchangya songs and dance becomes famous. There are many Tanchangya musical instruments such as Bashi, Kengkrong, Chobuk, duduk etc.
Agriculture is the main occupation of Tanchangya peoples. Even today they do jhum cultivation and they cultivate paddy, ginger, garlic, bagurpada (e.g.coriander) etc. on hill slopes. Literacy among Tanchangyas is low. A few of them serve in government and non-government organizations.
Tanchangyas celebrate 'Bishu' as a main enjoyable festival on the end and beginning of the Bengali new year. “Pachon” is a special item for Bishu. “Pachon” is a mixed vegetable with dried fishes etc. Now-a-days “Bishu mela” were organized in Tanchangyas localities. “Ghila kala”, “Nahdeng kala” “Gudhu kala” etc. are the Tanchangyas Traditional sports.
Tanchangya peoples are religiously Buddhists and observe religious rites such they worshipping Gautom Buddha and listening Buddha sermons. Tanchangyas also maintains the kathino chivar dan, Buddha purnima, maghi purnima etc. They have at least one Buddhist viharas in their own localities.
Upon the death of an individual, the body is bathed and covered with a white cloth. People pray for the departed soul in presence of monks. The eldest son or a close relative of the deceased then shifts the body to the funeral pyre. The next day, they collect the burnt bones in a pot and cover it with a piece of cloth. Then they throw the burnt bones into a river.
The male children of a deceased Tanchangya father divide the property equally among themselves. The daughters cannot claim any share of the property except when they have no brothers. If the deceased father has no children, an adopted son inherits all the property. If a wife is separated when she is pregnant and if she gives birth to a male child, he will inherit her ex-husband's property. If someone dies as a bachelor or without any children, his property will go to his brothers.
Today, Tanchangya is a developing ethnic community on the international level. Nowadays many Tanchangyas are service people and professionals such as doctors, engineers, lawyers, teachers etc. They also are trying hard to become retail traders.

Monipuri

Manipuri-মণিপুরী 

মণিপুরী ভারত ও বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নাম। এদের আদি নিবাস ভারতের মণিপুর রাজ্যে। মণিপুরীদের নিজস্ব ভাষা,বর্ণমালা, সাহিত্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে। ভারতের মনিপুর রাজ্যে ও বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোক বাস করে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের শিকার হয়ে এবং যুদ্ধজনিত কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের অধিবাসীরা দেশত্যাগ করে পাক-ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করে। পার্শ্ববর্তী আসাম রাজ্যের কাছাড় জেলায়, ত্রিপুরা রাজ্যে এবং বাংলাদেশে ব্যাপক সংখ্যক মণিপুরী অভিবাসন ঘটে। বার্মা-মণিপুর যুদ্ধের সময় (১৮১৯-১৮২৫) তৎকালীন মণিপুরের রাজা চৌরজিৎ সিংহ, তার দুই ভাই মারজিৎ সিংহ ও গম্ভীর সিংহসহ সিলেটে আশ্রয়গ্রহণ করেন। যুদ্ধ শেষে আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকেই স্বদেশে ফিরে যায়, কিন্তু বহু মণিপুরী তাদের নতুন স্থানে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যায়। বাংলাদেশে আসা মণিপুরীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, ময়মনসিংহের দুর্গাপুর, ঢাকার মণিপুরী পাড়া এবং প্রধানত বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে তোলে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ জেলায় মণিপুরী জনগোষ্ঠীর লোক বাস করে।
ভাষাগত এবং ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে বাংলাদেশের মণিপুরীরা তিনটি শাখায় বিভক্ত এবং স্থানীয়ভাবে তারা (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ ও (৩) পাঙন নামে পরিচিত। মণিপুরের অধিবাসীদের মধ্যে এই তিনটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের শিকার হয় এবং তারা বাংলাদেশে এসে পাশাপাশি বসতি স্থাপন করে। বিষ্ণুপ্রিয়ারা ককেশয়েড মহাজাতির আর্য-ভারতীয় উপপরিবারের অন্তর্গত এবং তাদের ভাষার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরি ভাষা। মৈতৈরা মঙ্গোলয়েড মহাজাতির তিব্বতী-বর্মী উপ-পরিবারের অন্তর্গত এবং তাদের ভাষার নাম মৈ তৈ। পাঙনরা আর্য বংশদ্ভুত হলেও মৈতৈ ভাষায় কথা বলে এবং ধর্মীয়ভাবে তারা মুসলিম। বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৩ সাল নাগাদ বাংলাদেশে মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া জনসংখ্যা ৪০ হাজার এবং মণিপুরী মৈতৈ জনসংখ্যা ১৫ হাজার। ভাষাগত ভিন্নতা বাদ দিলে বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈদের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে তেমন পার্থক্য নেই।
মণিপুরীদের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী। মণিপুরী সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। মণিপুরীদের মধ্যে ঋতুভিত্তিক আচার অনুষ্ঠান বেশি। বছরের শুরুতে হয় মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়াদের বিষু এবং মৈতৈদের চৈরাউবা উৎসব। আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও কাঙ উৎসবের সময় প্রতিরাত্রে মণিপুরী উপাসনালয় ও মন্ডপগুলোতে বৈষ্ণব কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দ নাচ ও গানের তালে পরিবেশন করা হয়। কার্ত্তিক মাসে মাসব্যাপী চলে ধর্মীয় নানান গ্রন্থের পঠন-শ্রবন। এরপর আসে মণিপুরীদের বৃহত্ম উৎসব রাসপূর্ণিমা। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মণিপুরের রাজা মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র প্রবর্তিত শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলানুকরন বা রাসপুর্ণিমা নামের মণিপুরীদের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রায় দেড়শত বছর ধরে (আনুমানিক ১৮৪৩ খ্রী: থেকে) পালিত হয়ে আসছে। কার্ত্তিকের পুর্ণিমা তিথিতে দুরদুরান্তের ল ল ভক্ত-দর্শক মৌলবীবাজার জেলার সিলেটের কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড়ামন্ডবের এই বিশাল ও বর্ণাঢ্য উৎসবের আকর্ষনে ছুটে আসেন। বসন্তে দোলপূর্ণিমায় মণিপুরীরা আবির উৎসবে মেতে উঠে। এসময় পালাকীর্ত্তনের জনপ্রিয় ধারা “হোলি” পরিবেশনের মাধ্যমে মণিপুরী তরুণ তরুণীরা ঘরে ঘরে ভিক্ষা সংগ্রহ করে। এছাড়া খরার সময় বৃষ্টি কামনা করে মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়ারা তাদের ঐতিহ্যবাহী বৃষ্টি ডাকার গান পরিবেশন করে থাকে।
মণিপুরীদের নিজস্ব লৌকিক ধর্মের নাম “আপোকপা” যা অত্যন্ত প্রাচীন, আধ্যাত্মিকতায় গভীর ও দার্শনিকভাবে উচ্চস্তরের। প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা নিজের প্রতিকৃতি থেকে মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিটি মানুষ সৃষ্টিকর্তার একেকটি ছায়া। এখনো মণিপুরী মৈতৈদের অনেকে এই ধর্মের অনুসারী। মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়াদের একাংশের মধ্যের “আপোকপা” পূজার প্রচলন রয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মণিপুরীরা বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়।
মণিপুরী জনগোষ্ঠীর প্রধান দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাষার পার্থক্য রয়েছে, যেমন –
  • মৈতৈ
  • বিষ্ণুপ্রিয়া
মণিপুরী মৈতৈ ভাষাকে তিব্বতি-বর্মী উপ-পরিবারের কুকি-চিন দলে এবং বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষাকে ইন্দো-আর্য উপ-পরিবারের বাংলা-অসমীয়া দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যদিও এই শ্রেণীকরণ নিয়ে ভাষাতাত্ত্বিকদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। অনেকে বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষাকে মহারাষ্ট্রী-সৌরসেনী ভাষাশ্রেণীর আবার কেউ কেউ একে ইন্দো-মঙ্গোলয়েড উপশ্রেণীর তালিকাভুক্ত করা সমিচীন মনে করেন। উৎস ও বিকাশের ক্ষেত্রভুমি অভিন্ন হওয়ায় উভয় ভাষার মধ্যে ব্যাকরণগত সামঞ্জস্য রয়েছে। উভয় ভাষাতেই পার্বত্য নাগা ও কুকিভাষার প্রভাব পরিলতি হয়। শব্দভাণ্ডারের দিক থেকে উভয় ভাষাতেই ব্যবহৃত হয় এমন শব্দসংখ্যা চার হাজারেরও বেশি।
১৮৮৯ সনে প্রকাশিত ভারতবর্ষের ভাষা শ্রেণীবিভাগের প্রধান ভিত্তি স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সনের Linguistic Survey of India-তে মৈতৈ ভাষার পাশাপাশি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষাকে মণিপুরের অন্যতম ভাষা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুইটি ভাষাই ভারতে স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের স্কুলগুলোতে মণিপুরী মৈতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়া উভয় ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। মণিপুরি (মৈতৈ) ভাষা ভারতের অন্যতম রাস্ট্রভাষা এবং মণিপুর রাজ্যের রাজ্যভাষা। মণিপুর রাজ্যে মণিপুরী মৈতৈ ভাষায় স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষায় মণিপুরে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ নেই। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্র থেকে প্রতি সপ্তাহে “মণিপুরী অনুষ্ঠান” শিরোনামে পর্যায়ক্রমে বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয় এবং এই অনুষ্ঠানের সম্প্রচার এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সূর্যদেবতার উদ্দেশ্যে রচিত গীতিকবিতা ঔগ্রী মণিপুরী মৈতৈ সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা খ্রীস্টিয় ৩৩ অব্দে রচিত। ঐছাড়া অনেক প্রেমগীতি ও লোকগাথা মণিপুরী মৈতৈ সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। মণিপুরি (মৈতৈ) সাহিত্যের লিখিত অস্তিত্ব পাওয়া যায় খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দী থেকে। অপরদিকে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষারও প্রাচীন সাহিত্যেভাণ্ডার রয়েছে। বরন ডাহানির এলা (বৃষ্টি ডাকার গান / ১৪৫০-১৫০০ খ্রী:), মাদই সরাহাল এলা (বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী লোকগান / ১৬০০-১৭০০ খ্রী:),খাম্বাথৈবীর প্রেমকাহিনী(১৫০০-১৬০০ খ্রী:), আপাঙর য়্যারী (লোককথা), পৌরেই (প্রবচন) ইত্যদি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী লোকসাহিত্যর অমূল্য সম্পদ। উনিশ শতকের মধ্যভাগে তৎকালীন বৃটিশ ভারতের রাজনৈতিক এজেন্ট Colonel McCullock তাঁর Valley of Manipur and Hill Tribes গ্রন্থে ইংরেজি, মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া ও মণিপুরী মৈতৈ ভাষার তুলনামুলক সংক্ষিপ্ত অভিধান প্রণয়ন করেন।
হাতে বোনা কাপড় তৈরীতে মণিপুরীরা খুবই দক্ষ। নিজেদের কাপড় তারা নিজেরাই তৈরি করে থাকে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই তাঁত রয়েছে। মণিপুরী হস্তশিল্প বিশ্বময় সমাদৃত। মণিপুরীদের বোনা তাঁতের শাড়ি, গামছা, চাদর,ব্যাগ ইত্যাদি অন্যান্য জাতির মধ্যেও সমান জনপ্রিয়।
বৃটিশ শাসনামলে মণিপুরী কৃষকদের সংগ্রামের ইতিহাস সর্বজনবিদিত। ১৯৪৩ সনে জমিদারী ও সামন্তবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল তৎকালীন মৌলবীবাজার মহকুমার ভানুগাছ পরগনার ভানুবিল গ্রামের মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া ও মণিপুরী মৈতৈ স¤প্রদায়ের কৃষকরা।

The Manipuris are one of the major ethnic communities of Bangladesh. They migrated to Bangladesh during the reign of Rajarshi Bhagyachandra (1764-1789) and the process was accelerated by the Manipuri-Burma war. After the war with Burma, Manipur was ruled by the Burmese invaders for about seven years. During that period, King Chourajit Singh accompanied by a large following of Manipuri subjects moved to areas - now in Bangladesh. At present they live in different places of Sylhet Division, like Kamalganj, Sreemongal, Kulaura and Baralekha thanas of Moulvi Bazar district; Chunarughat thana of Habiganj district and Chhatak thana of Sunamganj district. According to the 1991 population census, there were about 25,000 Manipuris in Bangladesh. As a result of their changing geographical locations and various kinds of religious and political interaction, Manipuri society became the meeting point of different ethnic groups and cultures. The mother-tongue of the Manipuris belongs to the Kuki-chin group of the Tibeto-Burman sub-family of the Mongolian family of languages. Manipuri literature is very old. It has a rich and variegated history and traditions. Interestingly, a characteristic of the old Manipuri script is that each and every letter of the alphabet has been named after a part of the human body. The shape of a letter is also based on the body part it is named after. Some books on Manipuri subjects have been published in Bengali. Manipuri men and women work together in the field. Men clear the jungles and till the soil, while the women sow seeds and do the transplanting. They celebrate seed planting and crop harvesting in their own colourful way. Manipuri culture has a rich and colourful tradition where dance and music play a vital role. The most vibrant branch of Manipuri culture is dance. Rasa dance is the finest product of their culture. Manipuri dance is characterized by gentleness, tenderness and devotion. The dress they wear during a dance is really gorgeous and beautiful. Most of the festivals of the Manipuris are accompanied by the consumption of alcoholic beverages.A very popular festival of the Manipuris is a type of Gopi dance celebrating the romantic liaison of Radha and Krishna. In the spring, Manipuris celebrate Holi, when they drench each other with colour. Most religious rites and festivals of the Manipuris are based on the seasons of the year. They also celebrate the rice harvest through a singing contest. Manipuris put up colourful wedding pandals, and the bride and groom go round the pandal to be greeted with paddy and durva grass. Manipuris cannot marry within their own clans. A Manipuri bride comes to visit her parents for the first time on the fifth day after marriage, providing an occasion for a lavish feast. According to tribal custom, all members of the clan are invited to this ceremony and they come with presents of rice, meat, fowls, pigs, money and alcohol. Manipuris have their own rituals regarding disposal of the dead body. They keep the dying person outside the house on a banana leaf, while Kirtans are chanted. Dead bodies are washed with the head pointed northward. They bury bodies of adolescents and cremate bodies of older persons. After disposing of the body, the pallbearers take a bath and dry their hands by holding them above a fire before entering their house.

Tuesday, October 13, 2015

Garo

Garo-গারো
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়। ভারতে মেঘালয় ছাড়াও আসামের কামরূপ, গোয়ালপাড়া ও কারবি আংলং জেলায় এবং বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, ঢাকা ও গাজিপুর জেলায় গারোরা বাস করে।
গারোদের ঘর, ছবিঃ জোবায়ের রায়হান, ময়মনসিংহ থেকে তোলা।

গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন। গারোদের ভাষায় ‘মান্দি’ শব্দের অর্থ হল ‘মানুষ’। গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত। তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম ‘ওয়ানগালা’; যাতে দেবতা মিসি আর সালজং এর উদ্দেশ্যে উৎপাদিত ফসল উৎসর্গ করা হয়। উল্লেখ্য ওয়ানগালা না হওয়া পর্যন্ত মান্দিরা নতুন উৎপাদিত ফসলাদি খেত না। আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো। অতীতে গারোরা সবাই তাদের নিজস্ব ধর্ম পালন করত। তাদের আদি ধর্মের নাম ‌’সাংসারেক’। ১৮৬২ সালে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণের পর থেকে বর্তমানে ৯৮ ভাগ গারোরাই খ্রীষ্ট ধর্মে বিশ্বাসী। খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের পর থেকে তাদের সামাজিক নিয়ম-কানুন, আচার-অনুষ্ঠানে বেশ পরিবর্তন এসেছে।

গারোদের প্রধান দেবতার নাম তাতারা রাবুগা। এছাড়াও অন্যান্য দেবতারা হলেন- মিসি সালজং, সুসমি, গয়ড়া প্রমুখ। বিভিন্ন গবেষকগণ বিভিন্ন সময়ে গবেষণা করে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গারো বর্ণমালা আবিষ্কার করেছেন। সেগুলো উচ্চ গবেষণার জন্য বিরিশিরি কালচারাল একাডিমী-তে সংরক্ষণ করা আছে।

গারো রূপকথা

যাদুকর মারা যাবার পর তার চার ছেলের মধ্যে বড়ছেলে বলল, আমি বড়ছেলে সুতরাং আমি সোনর ঢোল নেব। মেঝভাই নিল রুপোর ঢোল, সেজছেলে নিল তামার ঢোল আর ছোট ছেলে পেল টিনের ঢোল। চার ভাই ঢোল নিয়ে গারো পাহাড়ের গভীর বনে চলে গেল। বড়ভাই র্গজন গাছের বনে ঢুকে ডিম-ডিম করে ঢোল বাজাল। ঢোল বাজানোর সাথে সাথে ঢোলের ভেতর থেকে এক র্বমপরা সৈন্য। সৈন্যটি তলোযার উচিয়ে বলল, আমি তোমার দাস, তুমি আমার মনিব, বলো তুমি কি চাও? আমার যাদুর ক্ষমতায় আমি সেটা তোমাকে দিতে বাধ্য। বড়ছেলে বলল, আমাকে একটি রাজ্য দাও যে রাজ্যের রাজা হব আমি। তার সাথে সৈন্য সামন্ত, হাতি ঘোড়া পাইক পেয়াদা সব দাও। – জি আজ্ঞে  হুজুর, এইবলে যাদুর সৈন্যটি আকাশের দিকে তলোয়ার উচিয়ে বলল, আমার মনিব যা যা চেয়েছে হয়ে যাও। সঙ্গে সঙ্গে বন হতে দুরে একটি রাজ্য হয়ে গেল। সেখানে সৈন্য সামন্ত, পাইক পেয়াদা, সব হয়ে গেল। বড়ছেলে রা্জা হয়ে সিংহাসনে আরোহণ করল। মেঝছেলে শালবনের ভেতর গিয়ে ডিম-ডিম করে ঢোল বাজাল। সাথে সাথে ঢোলের ভেতর হতে বেরিয়ে এলো এক সৈন্য। সে বলল- আমি তোমার দাস তুমি আমার মনিব। আদেশ কর কি চাই। মেঝছেলে বলল, আমাকে প্রচুর সোনাদানা, হীরে মানিক ও ধনদৌলত দাও। যেটা দিয়ে আমি একটি রাজ্য কিনে রাজা হব। মেঝছেলেও ধনদৌলত পেয়ে একটি রাজ্য কিনে রাজা হয়ে গেল। সেজছেলে চিনার বনের ভেতর গিয়ে ঢোল বাজাতেই আবার একটি সৈন্য বেরিয়ে এলো। সে সৈন্য কে বললু আমাকে সমুদ্রগামী জাহাজ, নাবিক, সোনাদানা আর প্রচুর ধনদৌলত দাও আমি সওদাগরী ব্যবসা করবো এবং দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াব। যাদুর সৈন্য তাকে সবকিছু দিলে সেও জাহাজে চড়ে রওনা দিল। এবার ছোট ছেলের পালা। সে র্অজুন গাছের বনের ভেতরে গিয়ে ঢোল বাজাতেই বেরিয়ে এলো এক পরীর মতো সুন্দর রাজকন্যা। রাজকন্যা বলল – আমার নাম বনকুসুম। এই বনে যে নানা রকম পারিজাত, নাগকেশর, বনতোষনী, বনওকরা, মধুমালতি, বকুল যুঁই, পলাশ,শিমুল ও অন্যান ফুল দেখছ সেই ফুল রাজ্যের রাজকন্যা আমি। এখন বল তুমি কি চাও। তোমার ভাইদের মতো ধন দৌলত, রাজ্য না আমাকে নিয়ে এই বনে বাস করতে। ছোটছেলের নাম ছিল সজিব দ্রং। সে বলল- আমি ধনদৌলত, রাজ্য, কিছুই চাই না। আমি তোমার সাথে এই বনেই বাস করতে চাই। এরপর তারা দুজনে বনের মধ্যে একটি বাড়ি বানালো। বাড়ির সামনে ফুলের বাগান। তার ধারে পুকুর। পুকুর র্ভতি লাল পদ্য ফুল। ফুলবাগানে নানা রং এর ফুল। হাজারো পাথির কিচির মিচির। কাঠবিড়ালীর ছুটোছুটি। রাতের আধারে হাজারো জোনাকি পোকা পিটপিট আলো জ্বেলে নেচে বেড়ায়। এদের সাথে আনন্দে কাটতে লাগলো ওদের সুখের জীবন।
অনেকদিন ভাইদের সাথে দেখা নেই তারা কেমন আছে তাই জানার জন্য একদিন সজিব দ্রং বড়ভাই এর রাজ্যে এলো। বড়ভাই খুব খুশি ছোট ভাইকে পেয়ে। বড়ভাই এর বিশাল রাজ্য । সৈন্য সামন্ত। আধিপত্য সবকিছু আছে। কিন্তু এতো বড় রাজ্যের রাজা হয়েও বড়ভাই এর মনে সুখ নেই। সারাদিন মনমরা হয়ে রাজপ্রসাদের ভেতরে থাকে। বড়ভাই তাকে জানালো তার মন্ত্রি ও সেনাপতি গোপনে তাকে মেরে ফেলে সিংহাসন দখল করার যড়যন্ত্র করছে। তাই সে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে কোথাও বের হয় না। এইকথা শুনে সজিব দ্রং খুব দুঃখ পেল। সে বলল – এসব রাজ্য,ধনদৌলত ছেড়ে দিয়ে চলে এসো গারো পাহাড়ে। সুখে বাস করতে পারবে। বড়ভাই বলল – এইজন্যই বাবা বলেছিল কে জীবনে সুখি হবে আমি জানিনা। আসলে তুই বনকুসুমকে নিয়ে নিশ্চয় সুখে আছিস। এরপর সজিব দ্রং মেঝভাই এর রাজ্যে গেল। মেঝভাই তাকে খুব আদরে গ্রহন করল। মেঝভাই এর ও অবসহা একই রকমের। তার চার রানি। ছোট রানি হচ্ছে রাজ্যের সেনাপতির বোন। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত। ছোটরানি সেনাপতি ভাই এর সাহায্যে রাজাকে মেরে ফেলে নিজেই সিংহাসন দখল করতে চায়। এব্যাপারে রাজা খুবই উদ্বিঘ্ন। রাতে ঘুম নেই। মনে শান্তি নেই । সজিব দ্রং তাকেও বলল- এসব ছেড়ে দিয়ে গারো পাহাড়ে চলে এস। এরপর সে গেল সেজভাই এর কাছে। সে এখন আর জাহাজ নিয়ে বানিজ্য করতে যায় না। কারণ তার নাবিকরা জলদস্যুদের সাথে ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করে তার ধনসম্পদ লুন্ঠন করতে চাচ্ছে। তাকেও সে বলল – এসব ধনদৌলত ছেড়ে গারো পাহাড়ে চলে এস।
একদিন সত্যি সত্যিই তিনভাই চলে এলো। তারা দেখতে পেল বনের ভেতরে তাদের ছোটভাই তার স্ত্রী বনকুসুম কে নিয়ে খুব সুখেই দিন কাটাচ্ছে। তারাও আর গারো পাহাড় ছেড়ে গেলনা। বনকুসুমের তিন বোনকে তিনজনে বিয়ে করে আবার সুখে দিন কাটাতে লাগল। সহজ সরল জীবন সুন্দর সুখী জীবন।
সুত্রঃ আদিবাসী রূপকথা, হামিদুল হোসেন তারেক (বীরবিক্রম), রোদেলা প্রকাশনী
The Garos are indigenous people in Meghalaya, India and neighboring areas of Bangladesh like Mymensingh, Netrokona and Sylhet, who call themselves A·chik Mande (literally “hill people,” from a·chik “bite soil”+ mande “people”) or simply A·chik or Mande. They are the second-largest tribe in Meghalaya after the Khasi and comprise about a third of the local population. The Garos are one of the few remaining matrilineal societies in the world.
According to one such oral tradition, the Garos first immigrated to Garo Hills from Tibet (referred to as Tibotgre) around 400 BC under the leadership of Jappa Jalimpa, crossing the Brahmaputra River and tentatively settling in the river valley. The Garos finally settled down in Garo Hills (East-West Garo Hills), finding both providence and security in this uncharted territory and claiming it their own.
The earliest written records about the Garo dates from around 1800. They “…were looked upon as bloodthirsty savages, who inhabited a tract of hills covered with almost impenetrable jungle, the climate of which was considered so deadly as to make it impossible for a white man to live there” (Playfair 1909: 76-77). The Garo had the reputation of being fierce headhunters, the social status of a man being decided by the number of heads he owned.
In December 1872, the British sent out battalions to Garo Hills to establish their control in the region. The attack was conducted from three sides – south, east and west. The Garo warriors (matgriks) confronted them at Rongrenggre with their spears, swords and shields. The battle that ensued was heavily unmatched, as the Garos did not have guns or mortars like the British Army.
Togan Nengminja, a young matgrik, was in command of the valiant Garo warriors. He fell fighting with unmatched heroism and courage in December 1872.
Later, a Garo patriot and statesman Sonaram R Sangma also fought against the British and tried to unify the contiguous Garo inhabited areas.

Sunday, October 11, 2015

The Jaintia

The Jaintia

Jaintia an ethnic group living in Sylhet region and also known as Synteng have a very rich tradition and political history. Once they lived in the northern area of Sylhet. But after the PARTITION OF BENGAL in 1947, majority of them migrated to the Jaintia Hills in Assam where most of them are now settled. A small section of them are now living in Jaintapur upazila in Sylhet. The Jaintias in Bangladesh constitute an ethic group numbering about twenty thousand. According to the Anthropologists, Jaintia is one of the ancient original groups who migrated to the North Eastern region of the sub-continent and settled down there. There is a view holding that the Jaintia is a branch of the Khasi community. The Khasi is a branch of the Mon-khem race while Jaintia belongs to the Mongoloids. The similarity is consequent upon their co-existence for a long time and that similarity is confined in physical features only. No documentary evidences are available regarding the naming of the community. Some are of opinion that they are named after their principal goddess Joyanti. Devi Joyanti is an incarnation of Hindu goddess Durga. Jaintias also introduce themselves as Pnar. Jaintias have their own language, but no alphabets. The Jaintias in Bangladesh get education in the schools through the medium of Bangla. The literacy rate of the Jaintia is 80%, the highest among all tribes living in greater Sylhet region. At present many of them are serving in different government and private organisations. A number of children from Jaintia families are getting education at Shillong in Meghalaya. Though they use their mother tongue in conversation with their tribal people they speak in Bangla to communicate with others. The dress of the male members of both Jaintia and Khasi tribes is similar. However, the male members of Jaintia tribe living in Bangladesh wear same kind of dresses with the mainstream Bangali males. But the women wear the traditional Jaintia dresses. They cover the upper portion of the body with a piece of colourful decorated cloth. But the Jaintia ladies wear another piece of cloth as a modesty scarf knotted on the shoulder like Khasi women. Most of the Jaintia women are now accustomed to wear sari-blouses, although they prefer traditional attires at home. They are also fond of ornaments made of gold and silver. Agriculture is the main occupation of the Jaintias. They cultivate betel leaves and various nuts, which are used in local trading. The Jaintia society is matriarchal. Mothers dominate their respective families and children adopt the title of mother’s clan. The women exclusively inherit the family property. The Jaintia society is divided into a number of tribes, such as Sarty, Nayang, Kayang, Lanong, yangyoung, rymbai, dkhar etc. In spite of the existence of tribal system in the Jaintia society, caste discrimination is totally absent there. Intra tribal marriage is prohibited in Jaintia society. A social panchayet system settles disputes through arbitration. The arbitration is conducted under the chief panchayet and supported by the elders in the society. The decision of the panchayet is final in respect of any social problems. The chief of the panchayet is elected by the community.
Rice is the staple food of the Jaintias and they take it with various vegetables, fish and meat. Pork is their favourite dish. They also like mutton, chicken, milk and milk products. They are also used to drink tea, and they entertain guests with betel leaf and nuts. Locally brewed wine, known as kiad is popular among them. They like all the seasonal vegetables, especially bulbous plants and esculent roots. They consider dried fish as a delicacy. They cook their food like the Bangalis.
Hoktoi is the religious festival of the Jaintia. They celebrate the festival for two days. The event is celebrated by the Jaintia to pray for the peace of the soul who died and for the welfare of the next generation. They cook different kinds of foods and serve fruits to the guest. It is been said that, ‘better the dance, better the crop’ by the Jaintia people which has made them skilled in their own dimension of dancing. Such festivals are really part our culture which has made it more diversified.
Though pantheist in belief the Janitias are much influenced by Hinduism. Their main deity is goddess Jayanti, an incarnation of Hindu goddess Durga. They worship their traditional gods and goddesses along with the Hindu gods and goddesses. But it is an exception that they don’t have any specific temple or place of worship. They believe that their deities exist in nature and they offer their prayer in open air. They also believe in the eternal existence of a creator with whom the human being had a direct link at an initial stage. But when they started to be driven by selfish motives, they could not see God with their eyes as He disappeared. Thus the human being became busy with their families and worldly affairs so much that they started forgetting God gradually as the relationship weakens. So God advised them to follow a few moral sayings to live in the world in a modest way. The directives of God were: (a) earn honestly (Kamai ya ka haq), (b) know the people, understand God (Thipbru Thipblai) and (c) know both the lineages of your parents (Thipkur-Thipkhar). Jaintias also believe that God had sent some gods and goddesses on earth to control the indisciplined human being. They keep them in their control by imposing illness and diseases. Jaintias also worship those gods and goddesses in order to mitigate their rage. They have their own conception of sins and piety, heaven and hell, crime and punishment. However, some of them have embraced Christianity.

Saturday, October 10, 2015

Chakma

Chakma-চাকমা

নবান্নের ফসল তুলছেন চাকমা নারী-পুরুষ
চাকমা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী বাংলাদেশের আদিবাসী সম্প্রদায়। চাকমারামঙ্গোলীয় জাতির একটি শাখা এবং বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। বৌদ্ধপূর্ণিমা ছাড়া তাদের অন্যতম প্রধান আনন্দ উৎসব হচ্ছে বিজু। তাদের প্রধান জীবিকা কৃষি কাজ। জুম চাষের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন খাদ্যশষ্য ও রবিশষ্য উৎপাদন করে থাকে।
চাকমাদের উৎপত্তিকাল, আদি নিবাস ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাদের আগমন ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে ষোড়শ শতকের আগের কোনো সুস্পষ্ট ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকে নিশ্চিত বলা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমাদের বসবাসের নজির আছে। ১৫৬১ সালে এক ইউরোপীয়দের আঁকা ছবি থেকে বাংলার যে মানচিত্র পাওয়া যায় সেখানেও চাকমাদের অবস্থানের প্রমাণ আছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে চাকমা রাজ্যের রাজধানী ছিল তৈন বা আলেখ্যাং ডং। সময়ের পরিক্রমায় চাকমা রাজতন্ত্রে নানা উত্থান-পতন ও বর্মা-মোগলদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে চাকমাদের আবাসস্থল এবং রাজ্য শঙ্খ নদীর তীরবর্তী হাঙ্গরকুল ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া হয়ে উত্তর-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে ব্যাপ্ত হয়।
চাকমাদের ভাষার নামও চাকমা। চাকমাদের নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। চাকমারা ৪৬টি গোজা ও বিভিন্ন গুথি বা গোষ্ঠীতে বিভক্ত। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমাদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৭ জন।তবে বর্তমানে তা তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। চাকমারা আদি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তবে তারা বৌদ্ধ হলেও কেউ কেউ আবার প্রকৃতি পূজারীও। চাকমারা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করে। ক্রমাগত সৎকর্ম সাধনের মাধ্যমে নির্বাণ লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস করে তারা।
উৎসব
চাকমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বিজু’
চাকমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বিজু। বাংলা বছরের শেষ দুদিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালন করা হয়। বাংলা বছরের প্রথম দিনকে বলা হয় ফুল বিজু এবং শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি বা মূল বিজু। ফুল বিজুর দিন সকাল বেলা চাকমারা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজায়, বুড়ো-বুড়িদের গোসল করায়, নতুন কাপড় দেয়। রাতে বসে পরের দিনের পাচন তরকারি রান্নার জন্য সব্জি কাটতে বসে যা কমপক্ষে ৫টি এবং বেশি হলে ৩২ রকম সব্জির মিশেলে রান্না করা হয়। পরের দিন মূল বিজু, এদিন চাকমা তরুণ-তরুণীরা খুব ভোরে উঠে কলা পাতায় করে কিছু ফুল পানিতে ভাসিয়ে দেন। তারপর সবাই বিশেষ করে ছোটোরা নতুন জামা-কাপড় পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকে। তবে গ্রাম গুলোতে প্রাচীনকালের মতোন করে ঘিলা খারা (খেলা) হয়। পরের দিন নতুন বছর বা গয্যে পয্যে, নতুন বছরের দিন সবাই মন্দিরে যায়, খাবার দান করে, ভালো কাজ করে, বৃদ্ধদের কাছ থেকে আশীষ নেয়।
চাকমা লোকসাহিত্য বেশ সমৃদ্ধশালী। তাদের লোক কাহিনীকে বলা হয় উবগীদ। চাকমাদের তাল্লিক শাস্ত্র বা চিকিৎসা শাস্ত্র অনেক সমৃদ্ধ। আর বয়ন শিল্পে চাকমা রমণীদের সুখ্যাতি জগৎ জুড়ে।
একসময় জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল এ জনগোষ্ঠী এখন নিজ প্রচেষ্টা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষা-দীক্ষায় বেশ এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রসর আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে তাই সহজেই বিশেষভাবে পরিচিত চাকমারা। পার্বত্য চট্টগ্রাম যে তিনটি সার্কলে বিভক্ত এর অন্যতম চাকমা সার্কল। বর্তমানে (২০১২) চাকমা সার্কলের চিফ বা চাকমা রাজা হিসেবে খ্যাত ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়  তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

The Chakma, also known as the Daingnet people, is an ethnic  group concentrated in the Chittagong Hill Tracts of Bangladesh. The Chakmas are the largest tribe of Bangladesh. Today, the geographic distribution of Chakmas is spread across Bangladesh and parts of northeastern India, western Burma, southwest China and diaspora communities in USA, Canada, UK, France, South Korea, Japan and Australia.
Within the Chittagong Hill Tracts, the Chakma are the largest ethnic group and make up half of the region’s population. The Chakma are divided into 46 clans or Gozas. They have their own language, customs and culture, and profess Theravada Buddhism. The Chakma Royal Family is one of the major Buddhist royal houses of South Asia.
Scholars differ on the origin and history of Chakma. One popular view among the Chakma is that their ancestors once lived in Champoknagar, although opinions differ as to its location. It is also guessed that the Chakma derived their name from Champoknagar. According to oral history the Chakma left Champoknagar for Arakan in Burma where they lived for about 100 years. They had to leave Arakan for Bangladesh in or around sixteenth century, when Bangladesh was governed by Muslim rulers, before the arrival of the British. Even if we do not believe the story of their origin in Champoknagar, we have reason to believe the Chakma lived in Arakan before they migrated to Bangladesh. They were then nomadic shifting cultivators. On their arrival in Bangladesh the Chakma chiefs made a business contract with the Muslim rulers, promising to pay revenue or tax in cotton. In return they were allowed to live in the hill region and engage in trade with the larger society. By the late eighteenth century, British authorities had established themselves in the southeastern districts of Bangladesh. The British formally recognized a definite territory of the Chakma raja (the paramount chief). In 1776, Sherdoulat Khan became the Chakma raja. He fought unsuccessfully against the British. Further fighting between the Chakma and the British took place between 1783 and 1785. In 1787, Raja Janbux Khan, son of Sherdoulat Khan, made a peace treaty with the British government, promising to pay the latter 500 maunds of cotton. The British recognized the office of Chakma raja throughout the rest of their rule. Different Chakma rajas maintained good relations with the authorities of central administration and the Chakma increasingly came in contact with the Bengali people and culture.
Brief History-
In 1546 CE, when the king of Arakan, Meng Beng, was engaged in a battle with the Burmese, the Sak king appeared from the north and attacked Arakan, and occupied the Ramu of Cox’s Bazar, the then territory of the kingdom of Arakan.
Diego de Astor, a Portuguese, drew a map of Bengal, which was published as Descripção do Reino de Bengalla in the book Quarta decada da Asia (Fourth decade of Asia) by João de Barros in 1615 CE. The map shows a place called “Chacomas” on the eastern bank of the Karnaphuli River, suggesting that this is where the Chakmas used to live at that time.
The Arakan king Meng Rajagri (1593–1612 CE) conquered this land, and in a 1607 CE letter to a Portuguese merchant named Philip de Brito Nicote, addressed himself as the highest and most powerful king of Arakan, of Chacomas and of Bengal.[3]
Defeated by the Arakanese, the Chakmas entered the present Chittagong Hill Tracts and made Alekyangdong, present-day Alikadam, their capital. From Alekyangdong they went north and settled in the present-day Rangunia, Raozan, and Fatikchari upazilas of Chittagong District.
In 1666 CE, Shaista Khan, who was then Mughal Governor of Bengal, defeated the Arakanese, conquered Chittagong, and renamed it Islamabad. However, in the early days the Mughal supremacy was confined only to the plain areas of Chittagong, and the Chakmas remained practically unaffected.
After a few years, when a dispute developed between the Mughals and the Chakmas, the Mughals demanded tribute from the Chakmas for trading with Chittagong.In 1713 CE, peace was established, and soon a stable relationship developed between the Chakmas and the Mughals; the latter never demanded complete subjugation from the former.
The Mughals also rewarded the Chakma king Shukdev Roy, who established a new capital in his own name, in an area is still known as Shukbilash.
There are still ruins of the royal palace and other establishments.
Subsequently the capital was shifted to Rajanagar, Ranirhat, Rangunia Upazila, Chittagong.